চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার আমদানি বাড়ায় আবারো প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে বৈশ্বিক কয়লা বাণিজ্য। আগস্টে বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত তাপীয় কয়লার রফতানি দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৫৩ লাখ টনে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর এবারই প্রথম আগের বছরের একই মাসের তুলনায় প্রবৃদ্ধির দেখা পেল বৈশ্বিক কয়লা বাণিজ্য। পণ্যবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে বৈশ্বিক কয়লা বাণিজ্য বেড়েছে ৬৪ লাখ টন। খবর রয়টার্স।
কেপলার আরো জানায়, আগস্টে শুধু চীনের তাপীয় কয়লা আমদানি বেড়েছে ৫৩ লাখ টন। এ সময় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার আমদানি বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ছয় লাখ ও ১৮ লাখ টন। এ হিসাব অনুযায়ী, গত মাসে এ তিন দেশের সম্মিলিত ক্রয় ৭৬ লাখ টন বেড়ে ৪ কোটি ৭৯ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।
পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় চাহিদা বৃদ্ধি আঞ্চলিক বাজারে প্রভাব ফেলায় অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসল থেকে রফতানিযোগ্য কয়লার দাম টনপ্রতি ১১১ ডলারে পৌঁছেছে, যা পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জুলাইয়ে এ দাম ছিল টনে ১০৬ ডলার।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনে কয়লা উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ, শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি এবং আসন্ন শীত মৌসুমে বিদ্যুৎ খাতে চাহিদার প্রভাবে সামনের দিনগুলোয় আমদানি আরো বাড়তে পারে। আগস্টে দেশটিতে কয়লা উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি ৫ লাখ টনে। তবে তা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন অর্ডার বৃদ্ধির কারণে আগস্টে চীনের শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি পাঁচ মাসের মধ্যে দ্রুততম হারে বেড়েছে। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও আবহাওয়া পরিস্থিতিও বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। বছরের শেষভাগে যদি তীব্র শীত দেখা দেয় তাহলে পূর্ব এশিয়ার বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো মজুদ বাড়াতে আরো বেশি কয়লা আমদানি করবে। এতে বৈশ্বিক কয়লা বাণিজ্যের গতি বাড়বে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এর আগে কেপলার জানায়, চীন সেপ্টেম্বরে সমুদ্রপথে মোট ২ কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার টন তাপীয় কয়লা আমদানি করতে পারে। দৈনিক ভিত্তিতে সেপ্টেম্বরের আমদানি গড়ে ৯ লাখ ১৪ হাজার টন। এটি আগস্টের ৯ লাখ ২৫ হাজার টনের কাছাকাছি।
অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে যাওয়ায় চীনের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো কয়লা আমদানি বাড়িয়েছে। একই সময়ে রেকর্ড গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘণ্টায় ৬২ হাজার ৭৪০ কোটি বিলিয়ন কিলোওয়াটে পৌঁছেছে, যা গত বছরের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি।